ন্যাচারাল বাইপাস চিকিৎসা পদ্ধতি কি?

ন্যাচারাল বাইপাস চিকিৎসা পদ্ধতি আসলে শুধু মাত্র কোন একটা আধুনিক যন্ত্র দিয়ে থ্যারাপির মাধ্যমে নষ্ট হার্ট ভালো করে দেয়ার পদ্ধতি নয়। এটি এমন একটি কমপ্লিট চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনার অসুস্থ হার্টকে সুস্থ করার পাশাপাশি ৯টি ব্যবস্থাপনায় আপনার জীবনকে নতুন ভাবে এবং সুস্থ্য নিয়মে পরিচালনার পথ ও ব্যবস্থা করে দিবে।

এর মাধ্যমে আপনি যেমন ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে সুস্থ্যতা অনুভব করবেন এবং পরিবর্তন বুঝতে পারবেন তেমন করে আগামী সময়ে আপনি যেনো এমনি ভাবে সুস্থ্য থাকতে পারেন এবং ভালো ভাবে বাচতে পারেন সে সম্পর্কে আপনার এমন কিছু ধারনা এবং অভ্যাস তৈরী হবে যা ইতিপুর্বে আপনি কখনো করেননি এবং করার কথা ভাবেন নি।


ন্যাচারার বাইপাস থ্যারাপি চিকিৎসায় কি কি করা হয়

  • মেডিসিন থ্যারাপি- সঠিক ঔষধ, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক নিয়মে সেবন ও প্রেকটিস।
  • EECP থ্যারাপি- শরিরের রক্তচলাচল এর যাত্রাপথ সুগম এবং হার্টের পাম্পিং গতি বাড়ানো সহ হার্টে রক্ত চলাচলের জন্য নতুন নতুন পথ তৈরীর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী EECP মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন একটানা ১ ঘন্টা থ্যারাপি দেয়া হয়।
  • অক্সিজেন থ্যারাপি- বিশেষ ভাবে তৈরী এবং প্রসেস করা অক্সিজেন দিয়ে ফুসফুসক ও হার্টকে দ্রুত সুস্থ্য করে তোলার জন্য প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে অক্সিজেন থ্যারাপি দেয়া হয়।
  • চিলেশান/স্যালাইন থ্যারাপি- রক্তনালিকে পরিস্কার ও ব্লকমুক্ত করার জন্য এই ক্লিনজিং অর্থাৎ স্যালাইন থ্যারাপি দেয়া হয়। এটি রুগিকে দ্রুত ব্লকমুক্ত করতে খুবই কার্যকরী সহায়তা করে।
  • ব্যায়াম-ইয়োগা থ্যারাপি- বলা হয়ে থাকে ন্যাচারালা বাইপাস প্রক্রিয়ার সবচাইতে কার্যকরী অংশ হলো এই ব্যায়াম ও ইয়োগা থ্যারাপি। প্রতিদিন ১ ঘন্টা খুবই অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্বাবধানের ব্যায়াম-ইয়োগা থ্যারাপি পরিচালিত হয়।
  • মেডিটেশন থ্যারাপি- এর মাধ্যমে একজন মানুষ তার মনের ও ইচ্ছার উপর কন্ট্রোল করার ক্ষমতা অর্জন করে। প্রতিদিন সকালে ব্যায়ামের সাথে এই মেডিটেশন থ্যারাপি দেয়া হয়ে থাকে।
  • পরিকল্পিত খাদ্যভাস/ ডায়েট থ্যারাপি- উচ্চতা, বয়স, ওজন আর কাজের ধরনের উপর ভিত্তিক করে একজন ডায়েট এক্সপার্ট খাদ্য তালিকা তৈরী করে এবং সে অনুযায়ী প্রতিদিন ৪ বেলা তাকে সে খাদ্য দেয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, সে খাদ্য সম্পুর্ণ তেল ছাড়া বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রান্না করা হয়।
  • ওয়াকিং থ্যারাপি- প্রতিদিন যতটা প্রয়োজন ততটা হাটার অভ্যাস করার জন্য বাইরে এবং রানার মেশিনে অনুশীলন করা হয়।
  • প্লেজার থ্যারাপি- সপ্তাহে একদিন সকল রুগি এবং স্টাফ একত্র হয়ে একটা সময় নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন পন্থায় যেমন- গান, কৌতক, ভিডিও ও অন্যান্য ভাবে হাস্যরস এবং আনন্দ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।


চিকিৎসা শুরুর আগে:
  • বিগত দিনের আপনার সকল চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং আপনার মুখে রোগ এবং রুগী বিবরণ বিবরণ বিস্তারিত শুনেন এবং লিবিপদ্ধ করেন।

  • যদি কারো রিসেন্ট এনিজওগ্রাম অথবা সিটিএনজিওগ্রাম করা না থাকে তবে তাকে তাৎক্ষনিক সিটিএনজিওগ্রাম করে তার রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হব যাদি রিসেন্ট টেস্ট করার থাকে তবে নতুন করে আর কোন টেস্ট করতে হয় না।

  • এরপর ডাক্তার, থ্যারাপি স্পেশালিষ্ট, ডায়াটিসিয়ান এবং এক্সপার্টদের সাথে আলোচনা ও পর্যালোচনা করে রুগির সিচুয়েশন এবং চিকিৎসার কোর্স নির্ধারন করা হয়। রুগি এবং রুগির ধরনভেদে চিকিৎসার কোর্স কিছুটা আলাদা আলাদা হয়।

  • সাধারণত এই চিকিৎসার মেয়াদ ৩৫ দিনের হয়ে থাকে। রুগির রোগের অবস্থাভেতে এটা কম-বেশি হতে পারে।



ভর্তি হওয়া এবং চিকিৎসা শুরু:
  • প্রথমেই আপনার চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল পুরাতন রিপোর্ট ডায়েটিসিয়ানের কাছে জমা দিতে হবে।
  • সেখানে নতুন সিটিএনজিওগ্রাম করা হলে তার রিপোর্টও সাথে জমা দিতে হবে।
  • এরপর আপনার নাম এন্ট্রি করে আপনার নামে একটা ফাইল খোলা হবে।
  • এরপর আপনার প্রেসার, অক্সিজেন লেভেল, উচ্চতা, উজন ইত্যাদি সকল প্রকার মাপ নেয়া হবে।
  • এসকল কিছু শেষে সকল রিপোর্ট সহ আপনাকে সার্বক্ষনিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের রুমে নেয়া হবে।
  • সেখানে ডাক্তার আপনার সাধে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিবেন এবং আপনার ব্যপারে সব ধরনের তথ্য জেনে নিবেন।
  • এরপর ডাক্তার, ডায়েটিসিয়ান, থ্যারাপিস্ট এবং প্রতিষ্ঠানের সিইও সকলে একসংগে বসে আপনার সকল রিপোর্ট এবং তথ্য পর্যালোচনা করে আপনার চিকিৎর একটি প্যাকেজ তৈরী করবেন এবং আপনাতে সে সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।
  • প্যাকেজে সাধারণত ৩৫টি EECP থ্যারাপি, অক্সিজেন থ্যারাপি, প্রতিদিন ব্যায়াম-ইয়োগা-মেডিটেশন থ্যারাপি, নিয়মিতি এবং পরিমিত খাদ্যাভাস, ওয়ার্কিং থ্যারাপি ও প্লেজার থ্যারাপি থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে সেলাইন থ্যারাপিও দেয়া হয়ে থাকে।
  • সাধারণত প্রথম দিন থেকেই EECP থ্যারাপির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়।

আবাসিক/অনাবাসিক চিকিৎসা ব্যবস্থা:
  • আবাসিক ও অনাবাসিক দুধরনের ব্যবস্থাই এখানে রয়েছে।
  • যারা দুর থেকে অর্থাৎ ঢাকার বাইরে থেকে আসেন তারা সাধারণত আবাসিক থেকেই চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
  • যারা কাছাকাছি অর্থাৎ ঢাকাতেই থাকেন অথবা যাদের ঢাকাতে থাকার ব্যবস্থা আছে তারা সেখান থেকে এসে গিয়েও চিকিৎসা নিতে পারেন।
  • কিন্তু আবাসিক ও অনাবাসিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য কিংবা তারতম্য হয়ে থাকে। যেমন-
    • আবাসিক ব্যবস্থাপনায় ৪ বেলা সঠিক সময়ে রুমে বসেই খাবার পাওয়া যায়।
    • সম্পুর্ণ তেল ছাড়া এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রতিটি রান্না করা হয়।
    • প্রতিটি রুগির তার ডায়েটিসিয়ানের সাজেশন অনুযায়ী খাদ্য দেয়া হয়।
    • সকাল বিকাল কয়েকবার নার্স রুমে এসে রুগির অবস্থা এবং প্রেসার মেপে যায় এবং কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
    • প্রতিবিার ঔষধ খাবার সময় নার্স নিজে ঔষধ নিয়ে এসে রুগিকে খাইয়ে জান এবং সকল ঔষধ এই প্রতিষ্ঠান থেকেই দেয়া হয়।
    • যেহেতু সকালে ব্যায়াম-ইয়োগা-মেডিটেশন থাকে সেহেতু অন্য জায়গা থেকে এসে এটেন্ড করাটা কিছুটা কষ্টকর হয় বিশেষ করে শিতের সময়ে।

EECP থ্যারাপি: